ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়: BNP এর জন্য বড় শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে তখন টানটান উত্তেজনা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ছাত্ররাজনীতির বড় বড় নামগুলো যখন নিস্তব্ধ, শিক্ষার্থীরা যখন রাজনীতিকে দূরে ঠেলে শান্তির শ্বাস নিচ্ছে, ঠিক তখনই কিছু ছেলেমেয়ে ভিন্নভাবে এগিয়ে চলেছে। তাদের হাতে মাইক বা ব্যানার নেই, নেই কোলাহল। আছে শুধু শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা।

সেদিন গভীর রাতে হলে কারও অসুস্থ হয়ে পড়লে, অন্যরা দ্বিধায় থাকলেও তারাই দৌড়ে যায় ডাক্তার আনতে। পরীক্ষার আগে কারও পড়াশোনার নোট লাগলে, তারাই গোপনে দিয়ে আসে। আবার কেউ টাকার সংকটে পড়লে, ছোট ছোট ফান্ড তুলে সাহায্য করে দেয়। কিন্তু এসব নিয়ে কোনোদিন তারা পোস্টার ছাপায়নি, ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়নি।

এই নীরব কাজগুলো একদিন দুইদিন নয়, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে। শিক্ষার্থীরা বুঝে যায়—এরা আলাদা। এরা শুধু রাজনীতি করতে আসেনি, আসলেই পাশে থাকতে এসেছে।

প্যানেলের বৈচিত্র্যের গল্প

যখন নির্বাচনের প্যানেল ঘোষণা হলো, অনেকে অবাক। ইসলামপন্থী ছাত্রশিবির তাদের তালিকায় শুধু ছেলেদের রাখেনি; সেখানে চারজন ছাত্রীও আছেন। এমনকি চাকমা সম্প্রদায়ের একজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। আর কেউ হিজাব পরেছেন, কেউ আবার পরেননি।

এটি যেন একধরনের বার্তা—“আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে চাই।” শিক্ষার্থীরা দেখল, অন্তর্ভুক্তির এই চেষ্টা রাজনীতিকে ভিন্ন আলোয় উপস্থাপন করেছে।

অন্যদের ব্যর্থতার দৃশ্য

অন্যদিকে, অন্য অনেক সংগঠন তখনো পুরোনো ধাঁচে চলছে। কেউ কেউ কেবল ভোটের সময় এসে বড় বড় বক্তৃতা দিলেন, কেউ ক্যামেরার সামনে নাটকীয়ভাবে ভোট দিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ভাবল, “সারা বছর কোথায় ছিলেন তারা? এখন এসে এত ছবি তুলছেন কেন?”

আস্থা তো আর একদিনে আসে না। যে সম্পর্ক দিনের পর দিন গড়ে ওঠে, সেটাই টিকে যায়। আর সেখানেই হেরে গেল অন্যরা।

জয় ঘোষণার মুহূর্ত

ভোটের ফল যখন ঘোষণা হলো, সিনেট ভবনে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ল। ভিপি হলেন আবু সাদিক কায়েম, জিএস হলেন এস এম ফরহাদ, এজিএস হলেন মুহা. মহিউদ্দীন খান। মোট ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিই চলে গেল শিবিরের হাতে।

তাদের নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন, “হুট করে কিছু হয়নি। এটা আমাদের দীর্ঘ পথচলার ফল।”
শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে সাদিক কায়েমের চোখে ভরসার আভা—“আমরা সবার সঙ্গে, সবার জন্য কাজ করব।”

গল্পের শিক্ষা

এই গল্পে শিক্ষার্থীরা একটাই বার্তা দিয়েছে: রাজনীতি মানে কেবল শ্লোগান নয়, পোস্টার নয়, ক্যামেরা-শোও নয়। রাজনীতি মানে হলো পাশে থাকা, সমস্যায় হাত বাড়ানো, আর সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলা।

অন্য সংগঠনগুলোর জন্য এটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। যদি তারা এখনো পুরোনো ধাঁচে থাকে, তবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ব্যর্থতা। কিন্তু যদি তারা শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের বন্ধু হতে পারে, তবে তারাও একদিন আস্থা ফিরে পাবে।

উপসংহার

ডাকসু নির্বাচনের এই জয় আসলে এক নীরব গল্পের জাগরণ। ছোট ছোট পদক্ষেপ, মানবিক সংযোগ আর অন্তর্ভুক্তির বার্তা মিলেই তৈরি হয়েছে আস্থার সেতু। আর সেই সেতুতেই ভর করে শিবির আজ বিশাল জয় পেল।

ভবিষ্যৎ রাজনীতি কেবল তাদেরই, যারা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে—নীরবে, অকপটে, আন্তরিকভাবে।

✍️ Political Insights BD

Leave a Comment